আমার রূপসী গ্রাম-বাংলা চাঁদপুর জেলা !

আমার রূপসী গ্রাম-বাংলা চাঁদপুর জেলা
Spread the love

আমার রূপসী গ্রাম-বাংলা চাঁদপুর জেলা !

আমার রূপসী গ্রাম-বাংলা চাঁদপুর জেলা ! এই রূপসী গ্রাম-বাংলার রুপ দেখতে হলে আসতে হবে আমাদের বাড়ি ৷ এখানে রয়েছে সবুজ-শ্যামল সোনায় মুড়ানো গ্রাম-বাংলার অপূর্ব দৃশ্য় ৷ আর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে চলা ডাকাতিয়া নদী ৷

আমার রূপসী গ্রাম-বাংলা চাঁদপুর জেলা
নদীমাতৃক চাঁদপুর জেলার রূপ-বৈচিত্র্য !

কবি হৃদয়ের একরাশ উচ্ছ্বসিত গ্রাম বাংলার রূপ সৌন্দর্য ধারন করে রেখেছে চাঁদপুর জেলা ৷ সকাল থেকে সন্ধ্যা এবং রাতের বেলায়ও রূপ বৈচিত্র্যে ভরে উঠে এই জেলা ৷ চারিদিকে সবুজ-শ্যামল গাছ-গাছালি ফুল-ফল আর নদী মাতৃক সৌন্দর্য যেন বহুমাত্রিক সৌন্দর্যে ভরে উঠেছে এই জেলায় ৷ তাইতো ভ্রমণ পিপাসু মানুষের কাছে চাঁদপুর জেলা অনেক জনপ্রিয় একটি জেলা ৷

নদীমাতৃক চাঁদপুর জেলার রূপ-বৈচিত্র্যঃ

চাঁদপুর জেলা তিন নদী মোহনার সঙ্গমস্থলে অবস্থিত ৷ এখানে রয়েছে পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদী ৷ এই তিন নদীর মোহনা এক সঙ্গে মিলে মিশে মেঘনার নাম ধারন করে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে ৷

কখনো নদীর বুকে জোছনা উপভোগ করেছেন ? লঞ্চের ছাদে কিংবা নদীর পাড়ে বসে পূর্ণিমা চাঁদের সৌন্দর্য উপভোগ করেছেন ?? এসব উপভোগ করতে হলে আসতে হবে চাঁদপুরে ভরা পূর্ণিমা রাতে ৷ এখানে রাতের স্নিগ্ধতায় পরিপূর্নে ভরা জোছনাকে উপভোগ করতে পারবেন ৷ তারপর চাঁদকে সঙ্গে নিয়ে যখন ধলেশ্বরী নদীর দিকে এগিয়ে যাবেন ৷

তখন মনে হবে কোন এক স্বপ্নপূরীতে এসে পড়েছেন ৷ তারপর ধলেশ্বরী নদী পেরিয়ে যখন মেঘনার মিলনস্থলে এসে পতিত হবেন ৷ তখন মনে হবে চাঁদ যেন তার সৌন্দর্যের ভান্ডার দু’হাত ভরে উজাড় করে দিয়েছে প্রকৃতি প্রেমীদের ৷ সেই সাথে জোছনার ছিটকে পড়া আলোগুলোকে মনে হবে মুক্ত দানার মত ৷

"<yoastmark

তাইতো চাঁদপুরকে বলা হয় ‘দ্যা সিটি অব হিলসা’ বা ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর ৷ বর্তমানে এই চাঁদপুর জেলা দেশের প্রথম ব্র্যান্ডিং জেলা হিসেবে সুনাম অর্জন করেছে ৷ তাই আমাদের এই চাঁদপুর জেলার সৌন্দর্য , ঐতিহ্য ও আভিজাত্যকে তুলে ধরতে চাই পৃথিবীর বুকে ৷ পৃথিবীর সকল মানুষ দেখুক , জানুক চাঁদপুর জেলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, রূপ-বৈচিত্র্য ও আভিজাত্য ৷

আমার রূপসী চাঁদপুর জেলার গ্রাম্য প্রকৃতিঃ

গ্রাম- বাংলার মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে হলে আসতে হবে সবুজ-শ্যামল সোনার গ্রাম বাংলায় ৷ যেখানে হিমেল হাওয়ায় সোনালী ফসলের মাঠ আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরে থাকে সমগ্র গ্রাম ৷

চাঁদপুরের গ্রাম বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ধারন করে আছে গ্রাম্য প্রকৃতি, গাছ-গাছালি ও ফসলের মাঠ ৷ সেই সাথে নানান জাতের পাখিদের কুহু-কলতান ৷ তাই তো এই সুবজ – শ্যামল প্রকৃতিতে মুগ্ধ হয়ে যায় প্রকৃতি প্রেমীরা ৷

চারিদিকের বৃক্ষরাজি যেন সৌন্দর্যের পসরা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে গ্রাম বাংলায় ৷ পল্লীর বুকে বয়ে চলা নদী আর উদাস মনে মাঝিদের বেয়ে চলা নৌকা ৷ এ যেন এক বিচিত্র সৌন্দর্যের লীলাভূমি এই গ্রাম বাংলা ৷ বাংলার গ্রামগুলোর এমনই রূপ -বৈচিত্র্য ৷ এই গ্রামগুলোই হলো চাঁদপুর জেলার প্রানবিন্দু ৷

তাইতো ছায়া শীতল এই গ্রামগুলোর পরিবেশ হয় শান্ত ৷ মাঠে মাঠে ফসলের সমারোহ যেন গ্রাম্য জনপদের পা ছুঁইয়ে দিগন্তে বিস্তৃত সবুজ ফসলের মাঠ ৷ চাঁদপুরের গ্রামগুলোতে রয়েছে ছোট ছোট পুকুর , দীঘি, কোথাও বাঁশের ঝাড়, কোথাও তাল গাছ, কোথাও নারিকেল ও সুপারির বাগান ৷

আমার রূপসী গ্রাম-বাংলা চাঁদপুর জেলা
চাঁদপুর জেলার গ্রাম্য প্রকৃতি !

আবার কোথাও কোথাও ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে বট গাছ ৷ এছাডাও রয়েছে আম – কাঁঠালের বাগানসহ বিভিন্ন ফলের বাগান ৷ পুকুরে পুকুরে কিংবা ফসলি জমিতে রয়েছে মাছের চাষ , গরু ও হাঁস-মুরগীর ফার্ম ৷

আতিথিয়তায় চাঁদপুর জেলাঃ

চাঁদপুর জেলার মানুষ অতিথিপরায়ণ বেশি ৷ চাঁদপুরের মানুষ এক সাথে মিলেমিশে খেতে পছন্দ করেন ৷ তাই তো বেশির ভাগ সময় গ্রামের মানুষ চড়ুইভাতির আয়োজন করে ৷ হোক সেটা কোন বিশেষ দিন কিংবা যে কোন সময় ৷ বেশির ভাগ সময়ই চাঁদপুরের গ্রামের মানুষগুলো সবাই মিলে একসাথে চড়ুইভাতির ব্যবস্থা করেন ৷ একসাথে আনন্দ উপভোগ করেন ৷

শীত মৌসুমে চাঁদপুরের গ্রাম্য প্রকৃতিঃ

শীতের সকালে কুয়াশার চাদরে ঢেকে যায় গ্রাম বাংলার প্রতিটি প্রান্তর ৷ এই সময় চাঁদপুর জেলার গ্রামগুলোর ফসলি জমি ভরে উঠে সরিষা ফুল আর লাল শাকে ৷ সেই সাথে গ্রামে-গঞ্জে আলু উৎপাদনও হয় এই মৌসুমে ৷ শিশির ভেজা সরিষার সবুজ গাছগুলোও যেন সোনাঝরানো রোদে ঝিকিমিকি করে উঠে এই সময়ে ৷ এ যেন এক অপূর্ব, স্নিগ্ধ, মনোরম দৃশ্যপট ৷

কনকনে শীতের মধ্যেও থেমে থাকেনা এখানকার গ্রামীণ কৃষকদের কাজ ৷ মাঠে মাঠে ফসল ফলানো, পরিচর্যা করা, সেচ দেওয়া এ যেন তাদের নিত্য নৈমত্তিক কাজ ৷ তাই গ্রীষ্ম, বর্ষা, শরৎ, হেমন্ত, শীত, বসন্ত সব ঋতুতেই তারা পরিশ্রমী ৷

গ্রামের শীতের সময়টা বেশ মজার ৷ শীতের সকালটা যেন খেজুরের রস ছাড়া জমেই না ৷ কারন, শীতের সকালের এক গ্লাস ঠান্ডা খেজুরের রস শরীরে এনে দেয় সজীবতা ৷ শীতের এ সময়ে চাঁদপুরের গ্রামগুলো নতুন নতুন ফলমুল আর শাকসবজীতে ভরে উঠে ৷ এ সময় কুয়াশা ঘেরা গ্রামের মেঠোপথগুলোতে হাটতে যাওয়ার অনুভূতিই আলাদা ৷

শীতের এই সময়ে আমার রূপসী গ্রামের বাড়িগুলো জমে উঠে খেজুরের রস আর পিঠা বানানোর ধুম ৷ নানান পদের পিঠা তৈরি হয় এই মৌসুমে ৷ ভাপা পিঠা, মুগ পাকন পিঠি, নারিকেল পিঠা, সূজি পিঠা, ক্ষীরের পিঠা, পুলি পিঠা, সিদ্ধ পুলি পিঠা, মালপোয়া পিঠা, চিতই পিঠা আর খেঁজুরের রসের পিঠা ইত্যাদি ৷ এ ছাড়াও রয়েছে নতুন গুঁড়ের পায়েস ৷ "<yoastmark

অর্থাৎ আমরা প্রচুর অর্থ ও সময় ব্যয় করে দূর দূরান্তের সৌন্দর্য দেখতে চলে যাই ৷ কিন্তু ঘরের কাছে যেই সৌন্দর্যগুলো দেখা যায় সেগুলোকে উপভোগ করিনা ৷ তাই তো দৃশ্যপটে থাকা সৌন্দর্যকে উপভোগ করার যেই পূর্নতা তা আর পাওয়া হয়না ৷ তাই হয়তো শৈশবে দেখা গ্রামের শীতের সকালটা আজও অমলিন ৷

শীতের ছুটিতে আমন্ত্রণে-নিমন্ত্রণে চাঁদপুরের গ্রাম বাংলাঃ

অন্যান্য গ্রামের মতই চাঁদপুরের গ্রামীণ জীবনে শীতকাল মানেই হলো ‘ কুটুম্বকাল’ ৷ এ সময় শহর থেকে আত্নীয়-স্বজন থেকে শুরু করে পাড়া-প্রতিবেশি সবাই ছুটে আসেন গ্রামের শীত কে উপভোগ করতে ৷ যাতে কর্মব্যস্তময় শহুরে জীবনের একঘেঁয়িমী থেকে কিছুটা দূরে থেকে শীতকে উপভোগ করতে পারে ৷ এই সময় বৌরা বাবার বাড়িতে ছুটি কাটাতে চলে যান ৷ আর শহুরে সন্তানেরা ফেরেন গ্রামের কোলে ৷

তারপর গ্রামের উঠোনে বহুদিন পরে জমে আড্ডা, খোশ- গল্প ইত্যাদি ৷ বিকেলে শুরু হয় ব্যাটমিন্টন খেলা ৷ আর এ খেলা চলতে থাকে মধ্যরাত পর্যন্ত ৷ অন্যদিকে বড়রা যখন দুপুরের খাবার শেষ করে ঘুম নিয়ে ব্যস্ত, তখন চলে কিশোর-কিশোরীদের চড়ুইভাতি খেলার পরিকল্পনা ৷ এ ঘর থেকে চাউল, ঐ ঘর থেকে পেঁয়াজ, তেল, অন্য ঘর থেকে মুরগি ব্যাস!

তারপর ই সন্ধ্যায় শুরু হয়ে যায় মাটির চুলোয় রান্না ৷ কুপিবাতি আর হ্যারিকেনের আলোয় আলোকিত সেই সন্ধ্যায় তখন জমে যায় গল্পের আসর ৷ আর এই গল্পে গল্পেই শেষ হয়ে যেত সেই দিনের চড়ুইভাতি খেলা ৷

AvatarAvatar
Jannatun Naime
This is Jannatun Naime. I live in Dhaka, Bangladesh area. My hometown is Chandpur District. I am an Entrepreneur ,Teacher, Blogger and Media Activist. Also a freelancer. These are Graphics Design, Digital Marketing, Video Editing, Content Writing, Content Creator, SEO expert etc with 5 years of experience in the field. I always ‍like to read and write any subject. This website is my personal website. I am a woman who always loves to learn new things and spread it through writing. That’s why I started this blog. The main focus of my writing is to know and write about my country, my district, travel story, freelancing, information and communication technology, science, e-commerce, weaving and crafts, entrepreneurs story, our lifestyle, our cuisine etc. https://jannatunnaime.com
https://jannatunnaime.com/

One thought on “আমার রূপসী গ্রাম-বাংলা চাঁদপুর জেলা !

Leave a Reply

Top

You cannot copy content of this page